রাজনীতি

নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার উদ্যোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ

  প্রতিনিধি ৯ জুন ২০২৩ , ৯:৩৬:২৯

শেয়ার করুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি, দ্রব্যমূল্য, লোডশেডিং, বিরোধী দলের টানা কর্মসূচি ঘোষণা, কূটনীতিক চাপ ও নানা ধরনের রাজনৈতিক অপপ্রচার ও গুজব দল ও সরকারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। অথচ আর মাত্র ৬ মাস পরই হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সময় সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে হবে। আর এটা করতে হলে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাড়াতে হবে। তাই কোরবানি ঈদের পরই টানা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে একাধিকবার মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেসব বৈঠকে উপরের চিত্র উঠে এসেছে। তাই কেন্দ্রীয় নেতারা এখন তৃণমূলকে চাঙ্গা রাখার কৌশল নির্ধারণ করছেন।

ওইসব বৈঠকে অংশগ্রহণকারী কয়েক নেতা হক কথাকে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে সরকার ও দলের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসবের সঙ্গে প্রশাসনকেও জড়ানো হচ্ছে। এতে দুটি উদ্দেশ্য পূরণ করতে চায় অপপ্রচারকারীরা।

 

প্রথমত-তারা সংঘবদ্ধ শক্তি হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে দিতে চায়, দ্বিতীয়ত প্রশাসনকে আওয়ামী লীগের মুখোমুখি করতে চায়। অতীতেও নির্বাচনের আগে তারা একই ধরনের তৎপরতা চালিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সফল হতে পারেনি।
নেতারা জানান, এবারো জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ষড়যন্ত্রকারীরা তৎপর। তারা ইউটিউব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। আমরা দলীয় নেতাকর্মীদের এসবে কান না দেয়ার নির্দেশনা দিচ্ছি। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচনের আগে অপপ্রচারকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের তৎপরতা সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল। নেতাকর্মীদের এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দলের অবস্থা, অবস্থান ও নেতাকর্মীদের চাওয়া নিয়ে আমরা প্রায়ই মূল্যায়ন করি। বিশ্লেষণ করি। এরপর দলীয় কর্মসূচি বা করণীয় ঠিক করি। আওয়ামী লীগ সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বড় রাজনৈতিক দল। আমাদের রুটিনমাফিক সাংগঠনিক অনেক কর্মসূচি রয়েছে। এসবের পাশাপাশি সময়োপযোগী নানা কর্মসূচিও পালন করে থাকি। সামনে আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেজন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, মাত্র কয়েক দিন পরই কোরবানির ঈদ। এরপরই টানা কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রুটিন কর্মসূচির বাইরেও এলাকায় জনমাবেশের ডাক দেয়া হবে। রাজনৈতিক মাঠে সরব উপস্থিতি থাকবে।

এজন্য ইউনিয়ন পর্যায়েও কর্মসূচি বিস্তৃত করা হবে। তারা জানান, নেতাকর্মীদের দাবি মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে তারা আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের চিত্র তুলে ধরতে চায়। পাশাপাশি ভোটের আগে স্থানীয় দলীয় কোন্দলও নিরসন করতে হবে। কর্মসূচি পালন করা হলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় অবস্থান তুলে ধরতে পারবে। এ প্রসঙ্গে সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী মানবজমিনকে বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অক্সিজেন হচ্ছে সাংগঠনিক কর্মসূচি। আমরা সেদিকটা লক্ষ্য রেখে কাজ করি। সামনে নির্বাচন। জনগণের কাছে আমরা উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। দেশের উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নেই। আমাদের দলীয় সরকারের আমলে যে উন্নয়ন হয়েছে তা নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, ঈদের পরে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা ও মহানগর পর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচি বিস্তৃত করা হবে। এদিকে দলীয় নেতারা জানান, রাজপথের আন্দোলনে বিরোধী দলগুলোকে কোনো ছাড় নয়-এমন মনোভাব নিয়েই মাঠে থাকবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচির দিকে। তাদের তৎপরতা অনুযায়ী নিজেদের কর্মসূচি নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগ। তবে আগামী ৩ মাস কোনো ধরনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে যেতে চায় না দলটি।

তবে পরিস্থিতি যদি বেশি উত্তপ্ত হয় কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যদি আন্দোলনের নামে সহিংসতা তৈরি করে। কিংবা সরকার পতন ঘটাতে জোর তৎপরতা চালায় তাহলে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কথা ভাববে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা মানবজমিনকে বলেন, আমরা পুরো পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ্য করছি। বিরোধী দলের গতিবিধি দেখছি। দলটির নেতারা বলেন, আমরা বিএনপি-জামায়াতের অতীত ইতিহাস জানি। আন্দোলনের নামে তারা দেশে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চালাতে পারে সেই ইতিহাস আমরা ভুলিনি।


শেয়ার করুন

আরও খবর

Sponsered content