রাজনীতি

সমাবেশ ঘিরে আ’লীগের পক্ষ থেকে কোনো সংঘাতের আশঙ্কা নেই

  প্রতিনিধি ২৪ জুলাই ২০২৩ , ১০:১২:০৪

শেয়ার করুন

আগামী ২৭ তারিখের সমাবেশ ঘিরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো সংঘাতের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো উস্কানি দেবে না। আমরা ক্ষমতায় আছি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দেশ চালাতে চাই। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটির পরিচিতি সভায় এসব কথা বলেন তিনি। উপ-কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে পরিচিতি সভা সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শুধু শুধু দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে আমাদের লাভ নেই, বরং ক্ষতি। আমরা অশান্তি চাই না। তবে কেউ যদি অশান্তি সৃষ্টি করে, জনগণের জানমাল রক্ষায় শান্তির জন্য প্রটেকশন দেবো আমরা।

তিনি বলেন, দেশের ৭০ ভাগ লোক নৌকায় ভোট দিতে উদগ্রীব হয়ে আছে।

কাজেই সরকার পতনের আন্দোলনে ভীত নয় আওয়ামী লীগ। জনগণই আমাদের শক্তি। তিনি বলেন, যেখানেই সমাবেশ সেখানেই পিকনিক পার্টি করে বিএনপি। তাদের একটা কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, তারা যেন মশার কয়েল বেশি করে আনে। মশার কয়েলটা নিয়ে আসবেন। কর্মীরা আবার আন্দোলন করতে এসে যেন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি না হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিসিএস পরীক্ষা দেই কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় টিকতে পারি না।
লিখিত পরীক্ষায় পাস করলে ভাইভাতে গিয়ে আউট। আজকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী মাঝে মাঝে খুবই কষ্ট পান, তাকে বাধ্য হয়ে অনেক সময় ভিন্নমতের সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে হয়। এটা তিনি প্রকাশও করেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েরা কেন বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেয় না, পড়াশোনা কেন করেন না, এসব প্রশ্নগুলো তিনি (প্রধানমন্ত্রী) প্রায়ই করেন। কোনো ছেলেমেয়ের ভালো ফলাফল পেলেই সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলেন বিসিএস দাও। আমাদেরতো লোক দরকার। সচিবালয়ে আরও কোয়ালিটি সম্পন্ন লোক দরকার। এ দেশে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নানা কায়দায়, কৌশলে ক্ষমতার মঞ্চে অধিষ্ঠিত, তারাই রাজত্ব করে গেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনের নাম শেখ হাসিনা। তার কমিটমেন্ট, সততা, নৈতিক সাফল্য, প্রশাসনিক দক্ষতা, সাহস, দৃঢ়তা, শিক্ষা, সব মিলিয়ে তিনি সবার সেরা।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ বক্তাই গৎবাঁধা বক্তব্য রাখেন বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, একটা সেট আছে, কেউ ১৯৪৯ সাল থেকে শুরু করেন, কেউ ৭৫ থেকে শুরু করেন। কিন্তু এর ভেতরে তথ্য নিয়েও কথা আছে। এতে আমাদের জ্ঞান-গরিমার পরিচয়তো দিতে পারি না। এ দেশে অনেকেই রাজনীতি না করে ক্ষমতায় এসেছে জানিয়ে কাদের বলেন, এ দেশে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নানা কায়দায়, কৌশলে ক্ষমতার মঞ্চে অধিষ্ঠিত, তারাই রাজত্ব করে গেছেন। এ দেশে প্রধান প্রধান দলের যারা কর্তৃত্বে এবং নেতৃত্বে এসেছেন, তারা রাজনীতি থেকে আসেনি এবং তাদের উত্তরসূরি যারা তাদের ধ্যান ধারণা, মন মানসিকতা রাজনীতি থেকে আসেনি। সেই রাজনীতি উপনিবেশিক বস্তাপচা রাজনীতি। ওই রাজনীতি যারা ধারণ করে তারা মাটি ও মানুষের নেতা নয়। আমাদের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, বঙ্গবন্ধু পরিবার আমাদের আদর্শ।

এ পরিবার আমাদের সবকিছু শিক্ষা দেয়। এই পরিবার আমাদেরকে সততা ও সাহস শিক্ষা দেয়, দুইটাই এ পরিবার থেকে পাই। ভালো ছেলেমেয়েদের রাজনীতিতে টানার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের একটা ছাত্র সংগঠন আছে। অনেক কমিটি ৫-৬-৭ বছর হয় না। কোথাও কমিটি হলেও ঠিকমতো কাজ করছে না, এগুলো তদারকি করতে হবে, দেখতে হবে। তিনি বলেন, ইডেন গার্লস কলেজের প্রকৃত সমস্যাটা কী, তাদের নেতৃত্বে সমস্যা কী দেখার জন্য আমি সাধারণ সম্পাদককে বলেছিলাম। ছাত্র রাজনীতিতে তাদের অ্যাট্রাক্টিভ করতে হবে। সেটা আপনাদের কাউকে দেখতে হবে। ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্বের গ্ল্যামার আর গাম্ভীর্য সবই হারিয়ে গেছে, ছাত্র রাজনীতির সুদিন ফিরিয়ে আনতে হবে, দেশের জনগণের কাছে ছাত্র রাজনীতি ভালোবাসার হতে হবে। আগে ছাত্রদের সাধারণ মানুষ, সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ভালোবাসতো, এখন ভয় করে। ভয় যেন না করে, ভালোবাসতে হবে। ভালোবাসলে ভালো ছেলেমেয়েরা রাজনীতিতে আসবে। আমাদের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করিডোর দিয়ে ছাত্র নেতারা হাঁটতো, তখন মেয়েরা দেখার জন্য ক্লাস রুমের দরজায় চলে আসতো, তারা দেখতো নেতা যাচ্ছে। আর এখন সরে যায়, কারণ তারা ভয় পায়, তাদের ভালোবাসতে হবে তাহলে রাজনীতিকেও তারা ভালোবাসবে।


শেয়ার করুন