সারাদেশ

আশুলিয়ায় পাপোশ তৈরির কারখানা গড়ে স্বাবলম্বী যুবক

  প্রতিনিধি ২০ আগস্ট ২০২৩ , ১:০৬:৪৪

শেয়ার করুন

সাভার উপজেলা প্রতিনিধি-পাপোশ তৈরির কারখানা গড়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন ঢাকার আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের শাহীন নামে এক ব্যক্তি। ভারত থেকে কাজ শিখে ঢাকায় এসে পাপোশ তৈরির কাজ শুরু করেন। পরে নিজেই ২০১৫ সালে ৪টি তাঁত বসিয়ে শুরু করেন উদ্যোক্তা হওয়ার লড়াই। কয়েক বছরের মধ্যেই ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে বর্তমানে তার পাপোশ তৈরির ৩০টি তাঁত রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর এলাকায় পাপোশ তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছেন। ভেতরে ঢুকতেই তাঁতের খটখট শব্দ। কোনো কোনো ব্যক্তি তাঁতে পাপোশ বুনছেন। কেউ পাপোশ ডিজাইন করছেন। কেউ মেশিনে সুতা থেকে পাপোশের জন্য রশি বুনছেন। পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ও উদ্যোক্তা শাহীন কাজগুলো তদারকি করছেন। তার এ ব্যবসায় শতাধিক যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। তার দেখা-দেখি উৎসাহী হয়ে আরো অনেকে গড়ে তুলেছেন পাপোশ তৈরির কারখানা। এখানে তৈরি করা পাপোস সরবরাহ করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। বিভিন্ন সাইজের বিভিন্ন দামের ও নানান রংবে রংয়ের পাপোশ তৈরি করছেন এখানকার কারিগররা।

উদ্যোক্তা শাহীন জানান, বিভিন্ন পোশাক কারখানা থেকে ঝুট কাপড় সংগ্রহ করে তাঁতের মাধ্যমে পাপোশ তৈরি করা হয়। এরপর সেলাই মেশিনে সেগুলোতে ডিজাইন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে মাসে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার পাপোশ উৎপাদন হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে প্রতিটি পাপোশ পাইকারি দরে প্রকার ভেদে ৩০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকায়।

তিনি আরও জানান, সুতা ও ঝুটের দাম বেশি হওয়ায় প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না। ৭ বছর আগে একটি পাপোশ যে দামে বিক্রি হয়েছে এখনও সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে পাইকারি। সব কিছুর দাম বৃদ্ধির কারনে এ ব্যবসায় লাভবান না হতে পারায় বিপাকে মহাজনেরা। দেশের চাহিদা মিটিয়ে যদি পাপোশ বিদেশে রপ্তানি করা যেতো তাহলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি মহাজনেরা অধিক লাভবান হতে পারতো। এছাড়া সহজ শর্তে ঋণ আর বিপণন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কর্মসংস্থান হতো অনেক বেকার যুবকের। এই শিল্পের বিকাশে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন এ ক্ষুদ্র পরিসরের ব্যবসায়ী।

সরকারি সহযোগিতা আর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে আর্থিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি বেকার যুবকদের প্রগতিতেও অনন্য অবদান রাখতে পারবে আশুলিয়ার ক্ষুদ্র এ পাপোস শিল্প- এমনটিই প্রত্যাশা স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলের।

মোঃ আব্দুল কাদের/


শেয়ার করুন

আরও খবর

Sponsered content