রাজনীতি

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া

  প্রতিনিধি ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ , ৮:৪৭:৩৭

শেয়ার করুন

গত ২৫ দিন ধরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে গত মাসের ৯ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে।

বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির সময় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যেমন ছিল, সেই অবস্থা থেকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তার অবস্থা খুব বেশি ভালো—এটা বলা যাচ্ছে না। যে কারণে তিনি কবে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাসা ফিরবেন সেটি বলা যাচ্ছে না।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিড়িয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান  বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) কেবিনে আছেন। উনার চিকিৎসা চলছে। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।’

চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। তার লিভার সিরোসিসের সমস্যা নিয়মিত বিরতিতে দেখা দিচ্ছে। যেটা বারবার ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কারণ এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এই রোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সম্ভব নয়। যার ফলে, লিভারের সঙ্গে সংযুক্ত অন্যান্য রোগগুলো কখনও-কখনও বেড়ে যায়। তখন সেই রোগগুলো চিকিৎসা দিতে হয়। যেগুলো বাসায় রেখে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়।

বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আগের মতোই আছে ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা। খুব বেশি ভালো যাচ্ছে না।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ম্যাডামতো অনেকগুলো রোগে আক্রান্ত। এরমধ্যে এখন লিভার সিরোসিসটা বড় সমস্যা। এখানে কোনও রকম জোড়াতালি দিয়ে চিকিৎসা চলছে। উনার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তো বারবার বলেছেন—ম্যাডামের উন্নত চিকিৎসা দরকার। যেটা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। তাকে বিদেশে অ্যাডভান্স সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন।’

এর আগে গত বছরের জুনে খালেদা জিয়ার অ্যানজিওগ্রাম করা হলে তার হৃদ্‌যন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর একটিতে রিং পরানো হয়। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন—খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার ও হৃদ্‌রোগে ভুগছেন। তার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণের পাশাপাশি ও লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত।

সর্বশেষ গত ১৩ জুন রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সে সময় হাসপাতালে পাঁচ দিন চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়।


শেয়ার করুন

আরও খবর

Sponsered content