প্রতিনিধি ১১ জানুয়ারি ২০২৪ , ১১:১৪:৫৯
বাগেরহাটে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত বেড়িবাঁধ অসমাপ্ত রেখেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বাঁধের মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা অংশের একাধিক স্থানে ফাটল এবং ব্লক ধসে গেলেও সেসব কাজ সমাপ্ত করা হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর। বাঁধের অন্তত তিন কিলোমিটার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ভাঙন ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোয় নদীতীর প্রতিরক্ষাকাজ বাস্তবায়নে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সাতটি স্থানের মধ্যে একটিতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু করেছে তারা।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাগেরহাটের উপকূলীয় মানুষকে সুরক্ষা দিতে ২০১৫ সালে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু হয়। ২৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পটিতে (সিইআইপি) অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক। মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বগী-গাবতলা পর্যন্ত ও সদর উপজেলা এবং রামপাল অংশে ১০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ শুরু করে চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্য ফাস্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো হেনান ওয়াটার কনজারভেন্সি। শরণখোলা উপজেলার বগী, গাবতলা, মোরেলগঞ্জের আমতলা, ফাসিয়াতলাসহ সাতটি স্থানে ভাঙন ও ব্লক ধসে বিলীন হওয়ার মধ্যেই কাজ অসমাপ্ত রেখে ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাঁধ হস্তান্তর করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বাঁধের আশপাশের বাসিন্দারা জানান, তাদের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধ নির্মাণের সময় মাটির বদলে বালি দেয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছেন তারা।
শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের গাবতলার বাসিন্দা জাকির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বলেশ্বর নদীর ভাঙনে ভিটাবাড়ী সবকিছু হারিয়েছি। ২০০৭ সালে সিডরে পরিবারের সদস্যদেরও হারিয়েছি। এরপর আমাদের একমাত্র দাবি ছিল টেকসই বেড়িবাঁধ। কিন্তু শুরু থেকেই বাঁধের কাজ ছিল নিম্নমানের। নদী শাসন না করায় নতুন করে বাঁধের ব্লক ধসে যাচ্ছে।’
সাউথখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার রিয়াদুল পঞ্চায়েত বলেন, ‘অনেক ত্যাগের বিনিময়ে একটি টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি ছিল এলাকাবাসীর। বাঁধ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু নদীশাসন না করেই নির্মাণ করায় বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।’
শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণ হওয়ায় মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছিল। কিন্তু নির্মাণ সম্পন্ন না করে কেন্দ্রীয়ভাবে হস্তান্তর ও বাঁধে ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী হতাশ। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দূরদর্শিতার অভাবে বাঁধটি হুমকির মুখে।’ শরণখোলার মানুষকে দুর্যোগের কবল থেকে বাঁচাতে নদী শাসন করে বাঁধের অসম্পন্ন কাজ শেষ করার দাবি জানান এ জনপ্রতিনিধি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, প্রকল্পটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে হলেও এটি নিয়ন্ত্রণ করা হতো কেন্দ্রীয়ভাবে। প্রকল্পের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরকে কিছুই জানানো হয়নি। স্থানীয় দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় না করে কাজ করায়, তারাও কাজের বিষয়ে কোনো খোঁজ খবর নিতে পারেনি। ফলে কাজে কিছুটা সমস্যা রয়েছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল বিরুনী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রকল্পকাজ শেষ হওয়ায় ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রকল্পটি হস্তান্তর করা হয়। ৩৫/১ ও ৩৫/৩ পোল্ডারের ১০২ কিলোমিটার বাঁধ হস্তান্তর করা হয় ওইদিন। পরে পরিদর্শন করে ৩৫/১ পোল্ডারের সাতটি স্থানে ২ দশমিক ৬৮ কিলোমিটারে বাঁধ অতিঝুঁকিপূর্ণ পেয়েছি। নদীতীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়নে ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাস হলে কাজ শুরু করা হবে।