বিনোদন

ফেরদৌসের পাশে শাওন

  প্রতিনিধি ৮ জানুয়ারি ২০২৪ , ৩:৪৭:৩৯

0Shares

শেয়ার করুন

নায়ক ফেরদৌস কে নিয়ে মেহের আফরোজ শাওন তার ভেরিফাইড ফেসবুকে একটি পোস্ট লিখেছেন যা হক কথা প্রকাশিত হলো-

জাহিদ হাসান, মাহফুজ আহমেদ, রিয়াজ আহমেদ, ফেরদৌস আহমেদ… এদের সবার সাথেই পর্দায় আমার ম্যালা কাজ করা হয়েছে। পর্দার বাইরেও বেশ খাতির (ভালো সম্পর্ক লিখলে ঠিক ভাবটা প্রকাশ হচ্ছিল না!) ছিল। আর আউটডোর শ্যুটিংএ দীর্ঘদিন একসাথে থাকলে তো সহশিল্পীর অনেকটাই চেনা হয়ে যায়।

সেই চেনা, সেই জানা থেকেই বলছি-
ফেরদৌস ভাই একজন ভালো মানুষ, সৎ মানুষ। তাকে নিয়ে আত্মজীবনীমূলক বই কাঠপেন্সিলে হুমায়ূন আহমেদএর একটি লেখা আছে।

“ ফটোগ্রাফার সাব্বির চরিত্রে অভিনয় করতে এগিয়ে এলেন চিত্রজগতের আরেক নায়ক ফেরদৌস। তার সঙ্গে আমি চন্দ্রকথা ছবিতে কাজ করেছি। চিত্রনায়কদের নায়ক সুলভ সমস্যা থেকে সে বহুলাংশে মুক্ত। বিয়ের পর তার স্বভাবে এবং আচরণে অন্য ধরণের স্থিরতা এসেছে। আমার আছে জল ছবিতে ৭ দিনের নোটিশে তাকে যে রাজি করিয়েছে তার নাম হাসান। হাসান এই দায়িত্ব পালণ করে মহানন্দে ইউরোপ বেড়াতে চলে গেল। আমি এবং শাওন খুবই আনন্দ পেলাম। আমরা সাব্বির নামের কঠিণ একটি চরিত্রে একজন ডিপেন্ডেবল আর্টিস্ট পেলাম।
ফেরদৌসের অনেক শিডিউল (দেশে এবং পশ্চিমবঙ্গে) ওলটপালট করতে হলো। তার মধ্যে যতটুকু ফাঁক পাচ্ছিল সে সিলেট থেকে বিমানে চলে যাচ্ছিল, অন্য শিডিউলে কাজ করে আবার ফিরে আসছিল।
ফেরদৌসের একটা ছোট গল্প বলার লোভ সামলাতে পারছি না। পাঠকরা জানেন কি না জানি না, ছবির সব নায়ক এবং নায়িকাদের আলাদা চেয়ার এবং বিশাল রঙিন ছাতা থাকে। নায়ক-নায়িকাদের সহকারীরা চেয়ার এবং ছাতা বহণ করে।
আমি একদিন ভুল করে ফেরদৌসের চেয়ারে বসে পড়েছি। খুবই আরামদায়ক চেয়ার। ফেরদৌস ব্যাপারটা লক্ষ করল এবং সঙ্গে সঙ্গেই তার স্ত্রীকে টেলিফোন করল।
‘স্যার আমার চেয়ারটায় বসে খুব আরাম পেয়েছেন বলে আমার মনে হয়েছে। তুমি তো এখন লন্ডনে। তুমি অবশ্যই লন্ডনের যে দোকান থেকে আমার এই চেয়ারটা কিনেছ, অবিকল সেরকম একটা চেয়ার কিনে সিলেটে পাঠাবার ব্যবস্থা করবে।’
আমি ফেরদৌসের টেলিফোনের বিষয়টা জানতাম না। একদিন বিস্মিত হয়ে দেখি, একই রকম ২ টা চেয়ার পাশাপাশি। ফেরদৌস বিনীত গলায় বলল, স্যার, এটা আপনার জন্য। গহীন জঙ্গলে পাওয়া এই উপহার কিছক্ষণের আমাকে অভিভূত করে রাখল। মনে হল সে আমার অভিনেতা না, আমারই ছেলে। বাবার বসার কষ্ট দেখে দূরদেশ থেকে একটা চেয়ার আনিয়েছে।”

হুমায়ূনএর অসুস্থতার কথা শোনার পর ফেরদৌস ভাই তার সাথে দেখা করতে দখিণ হাওয়া এসেছিলেন। হুমায়ূন তখন খাবার টেবিলে বসে লিখছেন। ফেরদৌস ভাইকে দেখে বললেন “কি… কিছু বলবা?”
ফেরদৌস ভাই মাথা নেড়ে বললেন “জ্বী না স্যার।”
তারপর অনেকক্ষণ দু’জন-ই চুপচাপ।
একসময় ফেরদৌস ভাই হুমায়ূন আহমেদএর পা ছুঁয়ে সালাম করলেন, তারপর চলে গেলেন।

হুমায়ূন আহমেদ চলে যাবার পর ফেরদৌস ভাই প্রায়ই আমাকে ফোন করতেন। এমনি এমনি… কেমন আছি, কি খবর, কাজ কি করছি, নতুন কাজ কেন শুরু করছি না এসব বিষয়ে কথা বলতেন। আমার পুত্রদ্বয় আর উনার কন্যারা একই স্কুলে পড়ায় সেখানেও দেখা হতো।
একদিন নুহাশপল্লীতে দেখি পরিবারসমেত ফেরদৌস ভাই! ভাবী এবং তার কন্যাদের নিয়ে হুমায়ূনকে দেখতে এসেছেন! নুহাশপল্লীর সহকর্মীদের কাছে শুনলাম হঠাৎ হঠাৎ তিনি একা নুহাশপল্লীতে গিয়ে হুমায়ূন আহমেদকে দেখে আসেন। সমাধির পাশে চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে থাকেন।

সিনেমার নায়ক মানেই সবকিছু মেকি হবে, সবকিছুতে অভিনয় থাকবে, ভান থাকবে এমন নয়। ফেরদৌস ভাই ভান করেন না। তাই তিনি যখন ভালো কোনো কিছু করবেন বলেন, আমি তা বিশ্বাস করি। তিনি যখন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করবার প্রতিশ্রুতি দেন, আমি তা বিশ্বাস করি। তিনি যখন আমাদের প্রানের ধানমন্ডি (ঢাকা ১০) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে সবার পাশে দাঁড়ান, আমি তাকে বিশ্বাস করি।

তাই আমার ভোট Ferdous Ahmed এর জন্য।
আমার ভোট নৌকার জন্য।

#জয়_বাংলা
#জয়_বঙ্গবন্ধু
#আমার_মার্কা_নৌকা


শেয়ার করুন

0Shares