প্রতিনিধি ৩০ জুলাই ২০২৪ , ৪:১৩:৫৬
শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া ও আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা, নির্যাতন, গণগ্রেফতার ও সম্পদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপের এই সংস্থাটি। এসব কর্মকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে ইইউ। সংস্থাটির পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানান।
ইইউর পররাষ্ট্র বিভাগ মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোটের (আসিয়ান) আঞ্চলিক ফোরামের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে ইইউ পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল গত ২৭ জুলাই লাওসে বাংলাদেশের প্রতিনিধি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের কাছে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জোসেপ বোরেল বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া ও আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইইউ উদ্বিগ্ন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা, নির্যাতন, গণগ্রেফতার ও সম্পদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়েও আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অবশ্যই এসব কর্মকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশে বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক, ছোট শিশুসহ অন্য ব্যক্তিদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বহু ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর পূর্ণ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে হাজারো মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া সকলেই যেন যথাযথ আইনি সুবিধা পান, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইইউ পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল বলেছেন যে চলমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় সে বিষয়ে সংস্থাটি গভীর নজর রাখবে। ইইউ আশা করে যে বাংলাদেশ সকল ধরনের মানবাধিকারের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে।