এক্সক্লুসিভ

পুলিশের সাবেক কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের পাহাড়

  প্রতিনিধি ২ জুলাই ২০২৪ , ১০:৩৯:২১

0Shares

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাবেক চেয়ারম্যান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এডিশনাল আইজি) একেএম শামসুদ্দোহা খন্দকারের স্ত্রী ফেরদৌসী সুলতানা খন্দকার পেশায় গৃহিণী। তার আয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো উৎসই নেই। তবুও ঢাকার দোহারসহ বিভিন্ন জায়গায় ২৭ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। স্বামীর অবৈধ আয়ের অর্থেই এসব সম্পদ গড়েছেন ফেরদৌসী সুলতানা খন্দকার। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার এই দম্পতির বিরুদ্ধে সাড়ে ৬৬ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে সংস্থাটি। দুুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম তদন্ত কার্যক্রম শেষে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন।

তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের হিসাবে সন্দেহজনক উৎসের অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে ২১ কোটি ৫ লাখ ২৫ হাজার ১৮২৯ টাকা জমা করে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় উত্তোলন করে তার অবস্থান, প্রকৃতি, উৎস, মালিকানা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তিনি ৮ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার ২২১ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনসহ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া দুদকের অনুসন্ধানে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৩ হাজার ৭৮ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।

যে কারণে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪-এর ২৬ (২) ২৭ (১) এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অন্যদিকে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ২৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩ হাজার ৮৯১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা এবং ২৭ কোটি ৪৮ লাখ ৮২ হাজার ৪৯১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে দ্বিতীয় চার্জশিটে। যেখানে মো. শামছুদ্দোহা খন্দকারকে সহযোগী আসামি করে তার স্ত্রী ফেরদৌসী সুলতানাকে প্রথম আসামি করা হয়েছে।
শামসুদ্দোহা ২০১১ সালে প্রেষণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান পদে বসেন। ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। ওই মামলায় স্ত্রী ফেরদৌসী সুলতানাও আসামি। ২০২১-২২ সালের পরিষদে শামসুদ্দোহা ছিলেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল।


শেয়ার করুন

0Shares

আরও খবর

Sponsered content