প্রতিনিধি ৯ অক্টোবর ২০২৪ , ২:৪৩:৩৯
দক্ষিণ কোরিয়ায় নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে কুকুরের মাংস খাওয়া। এমন সিদ্ধান্তের কারণে দেশটির দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ঐতিহ্যের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এদিকে, প্রতিবাদে মাথা ন্যাড়া করে বিক্ষোভ করেছে কুকুরের মাংস শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এবিএস-সিবিএন নিউজ এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে, সরকার খাবারের জন্য প্রজনন করা প্রায় ৫ মিলিয়ন কুকুরকে পুনর্বাসনে সহায়তা করবে।
কুকুর উৎপাদনে জড়িতদের ভর্তুকি ও প্রণোদনা দেবে যাতে তারা আগামী ২০২৭ সালের প্রথম দিকে নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
সরকার কুকুর প্রজননকারী, কৃষক এবং রেস্তোঁরাগুলোকে তাদের ব্যবসা বন্ধের জন্য প্রণোদনা হিসেবে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে।
তবে, কুকুরের মাংস শিল্প গোষ্ঠীগুলো বলছে, প্রদত্ত সরকারি সহায়তা অপর্যাপ্ত। এ সহায়তা বৃদ্ধির জন্য তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া জু ইয়ং-বং বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের কোনো শিল্প বন্ধ করার বা লোকেরা কী খেতে পছন্দ করবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এ ধারণার সঙ্গে একমত হতে পারি না যে, এটি বর্বর। কারণ যেসব দেশে পশুপালনের ঐতিহ্য রয়েছে, তারা কোনো না কোনো সময়ে কুকুরের মাংস খেয়েছে। এখনও এমন অনেক দেশ রয়েছে যেখানে কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।’
জু বলেন, কুকুরের মাংস খাওয়ার রীতি বাতিলের বিলের আলোচনা থেকে খামারিদের সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া হয়েছিল। সরকার যে আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব করেছে সেটি সম্পূর্ণরূপে অপর্যাপ্ত। এ আইন বাস্তবায়িত হলে খামারিরা তাদের জীবিকা হারাবেন।
বিক্ষোভের এক পর্যায়ে খামারিদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। তারা বিক্ষোভ নিয়ে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের কাছাকাছি যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, জুসহ তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে।
কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন হ্রাস পেলেও খামারি ও অনেক রেস্তোরাঁর মালিক এটিকে বৈধ রাখার জন্য লড়াই করে আসছেন।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ায় দশকপুরোনো এ প্রথা ক্রমেই দেশটির যুব সমাজের অপছন্দের হয়ে উঠছে। অনেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জানিয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পশুপ্রেমীরা এ খাদ্যাভ্যাসের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারপরই দেশটির সরকার এ পদক্ষেপ নিল।