প্রতিনিধি ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৫:৩৯:৫৪

দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর দেশের মাটিতে পা রেখে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরে এলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে সিলেটে স্বল্প যাত্রাবিরতির পর তাকে বহনকারী বিমান ঢাকায় অবতরণ করে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে। বিমানবন্দরেই তাকে ঘিরে ছিল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসপূর্ণ গণসংবর্ধনা।
দেশে ফেরা, জনগণের উদ্দেশে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরা এবং অসুস্থ মা—বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়া—সব মিলিয়ে দিনটি পরিণত হয় ‘টক অব দ্য টাউন’-এ।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে এক আবেগঘন মুহূর্তে তারেক রহমান পাদুকা খুলে শিশিরভেজা ঘাসে খালি পায়ে হাঁটেন। হাতে তুলে নেন একমুঠো মাটি। চোখেমুখে তখন স্পষ্ট ছিল দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে মাতৃভূমিতে ফেরার তীব্র আনন্দ।
এরপর তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করে সরকারের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং শিগগির সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
“এখন সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার”রা
জধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত গণসমাবেশে ভাষণে তারেক রহমান বলেন, এখন সময় এসেছে বিভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার। পাহাড়-সমতল, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্য ও সহাবস্থানের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’-এর আদলে তিনি বলেন,
“আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান—এই দেশের মানুষের জন্য, এই দেশের ভবিষ্যতের জন্য।”
এই পরিকল্পনার লক্ষ্য দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন।
নিরাপদ বাংলাদেশ ও শহীদদের স্বপ্ন
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি শহীদ ওসমান হাদীসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশ গড়তে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন,
একটি এমন বাংলাদেশ চাই—যেখানে নারী, পুরুষ, শিশু সবাই ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে পারবে; যেখানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে।
মায়ের কাছে ছুটে যাওয়া
সমাবেশ শেষে তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে হাজারো নেতাকর্মীর ভিড়ে গাড়িবহর ধীরগতিতে এগোয়। রাস্তার দুই পাশে অপেক্ষমাণ মানুষদের উদ্দেশে হাত নেড়ে ভালোবাসার জবাব দেন তিনি। সন্ধ্যা ৫টা ৫৩ মিনিটে তিনি হাসপাতালে পৌঁছে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন রাজনীতিতে নতুন আলোচনা, প্রত্যাশা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে—তিনি কতটা সফল হবেন, তার উত্তর দেবে সময়ই।

















