২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও এককভাবে সরকার গঠন না করে সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন,
দেশকে অন্তত পাঁচ বছর স্থিতিশীল রাখতে রাজনৈতিক দলগুলো যদি একসঙ্গে সরকার পরিচালনায় সম্মত হয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামী সেই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত। ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনী বাস্তবতা ও জামায়াতের অবস্থান
সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পর দ্বিতীয় শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে পারে জামায়াতে ইসলামী। এতে ১৭ কোটি ৫০ লাখ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে দলটির মূলধারার রাজনীতিতে পুনরাগমনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে।
এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে জোট সরকারে ছিল জামায়াত।
দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচি হবে ঐক্যের ভিত্তি
ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
যেকোনো ঐক্য সরকারের ক্ষেত্রে দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচি একটি অভিন্ন লক্ষ্য হতে হবে। সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল থেকেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। জামায়াত সর্বোচ্চ আসন পেলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না—সে সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামেই নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, শরিয়াহভিত্তিক আদর্শে বিশ্বাসী হলেও জামায়াত বর্তমানে নিজেদের রাজনৈতিক আহ্বানকে আরও বিস্তৃত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জামায়াতের রাজনৈতিক পুনরুত্থান ঘটে। একই সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দলীয় সনদের কারণে আদালতের রায়ে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের আগস্টে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।
ভারত ও পাকিস্তান—ভারসাম্যের বার্তা
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে। তবে জামায়াত সবার সঙ্গে উন্মুক্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
তিনি জানান, চলতি বছরের শুরুতে এক ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে তার বৈঠক হয়, যা ওই কূটনীতিকের অনুরোধে গোপন রাখা হয়েছিল।
তার ভাষায়,
“সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের নিজেদের মধ্যেও এবং সবার সঙ্গে উন্মুক্ত সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।”
পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, জামায়াত কোনো একক দেশের দিকে ঝুঁকতে চায় না; বরং সব দেশের সঙ্গে সম্মানজনক ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কই তাদের নীতি।
রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে জামায়াতের অবস্থান
জামায়াত আমির জানান, জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত কোনো সরকারই বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে স্বস্তিবোধ করবে না। তিনি ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন নিজেও রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়াদের মাঝপথে পদত্যাগের প্রস্তুতির কথা বলেছিলেন। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি, বিষয়টি আরও জটিল করতে চান না বলেও জানান।
সম্পাদকঃ মাহবুবা আক্তার। অফিসঃ ৭৫ ই-ব্রডওয়ে,নিউইয়র্ক এনওয়াই ১০০০২।ফোন:+৮৮০১৭১২৯০৩৪০১ ই- মেইলঃ dailyhaquekotha@gmail.com
প্রকাশিত সংবাদপত্রের অংশ