এক্সক্লুসিভ

ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠকের কথা স্বীকার জামায়াত আমিরের, সম্পর্ক উন্নয়নের আহ্বান

  প্রতিনিধি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৫:১৯:৩৯

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি বক্তব্য। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেছেন, ২০২৫ সালের শুরুতে তিনি একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়াদিল্লি যখন বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরবর্তী সরকার গঠনকারী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করতে আগ্রহী, সেই প্রেক্ষাপটেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ডা. শফিকুর রহমান জানান, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকেরা তার সঙ্গে প্রকাশ্য বৈঠক করলেও সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও ভারতে অবস্থান করাটা উদ্বেগজনক। তার মতে, হাসিনার পতনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভবিষ্যতে কেমন হওয়া উচিত—এ বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,

“আমাদের একে অপরের প্রতি উন্মুক্ত হতে হবে। সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।”

তবে তার এই বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যদিও ভারত সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়টি সত্য।

পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,

“আমরা সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চাই। কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়া আমাদের নীতি নয়।”

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রসঙ্গে তিনি জানান, জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত কোনো সরকারই বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে ‘স্বস্তিতে’ থাকবে না। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সমর্থনে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সাহাবুদ্দিন। চলতি মাসের শুরুতে তিনিও রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে মেয়াদের আগেই পদত্যাগে প্রস্তুত আছেন।

এ বিষয়ে বুধবার রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি আরও জটিল করতে চান না।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকেই জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক পুনরুত্থান শুরু হয়। বর্তমানে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নিষিদ্ধ।

এর আগে, ২০১৩ সালে আদালতের রায়ে জামায়াতের গঠনতন্ত্রকে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের পরিপন্থী ঘোষণা করে দলটিকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের আগস্টে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।


শেয়ার করুন

আরও খবর

Sponsered content