প্রতিনিধি ১১ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:০৩:০৫

সংবাদ –
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত হয়েছে—এমন আস্থা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেই বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক আইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের প্রধান সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, ইইউ একটি শক্তিশালী ও বড় পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে পাঠাতে আগ্রহী এবং তারা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। ইইউ চায়—নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর যেন সব পক্ষ তা মেনে নেয় এবং দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ বাধাগ্রস্ত না হয়।
তিনি বলেন, ইইউ প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগ ও অভিজ্ঞতা জানতে আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একইসঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রত্যাশার কথা জানান তারা।
সরকারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রশাসনের ঝুঁকে পড়ার কারণে নির্বাচনী পরিবেশ প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ প্রোটোকলের মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পক্ষপাতের বার্তা যাচ্ছে, যা নির্বাচনী মাঠে অসমতা তৈরি করছে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, কিছু মূলধারার মিডিয়া এনসিপিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে।
তিনি জানান, এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিয়মিতভাবে অবহিত করা হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে যেসব বাধা বা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, সেগুলোর তথ্যও কমিশনকে জানানো হবে।
ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, প্রাথমিকভাবে একাধিক ঋণখেলাপির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি পোস্টারিংসহ প্রচার কার্যক্রমে আইন ভঙ্গের চেষ্টাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তাহীনতা রয়ে গেছে। যদিও সরকার কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, তবে আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়নি। তবুও এনসিপি মাঠে সক্রিয় থাকবে এবং ২১ জানুয়ারির পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা আরও জোরদার করবে।
আসন সমঝোতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম জানান, এ বিষয়ে শিগগিরই এনসিপির অবস্থান স্পষ্ট করা হবে। আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারির মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তিনি বলেন, জামায়াত ও এনসিপির জোট নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনেকটাই এগিয়ে আছে এবং গণভোটের পক্ষে প্রচারণাও শুরু হয়েছে। আসন সমঝোতার ঘোষণা এলে বড় কোনো বাধা থাকবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

















