বিএনপি

কর্মী থেকে নেতা : তারেক রহমান

  প্রতিনিধি ১ জানুয়ারি ২০২৬ , ৬:৩১:৫৭

শেয়ার করুন

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তারেক রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত নাম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতায় তিনি আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। তবে তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিচয় কেবল পারিবারিক সূত্রে নয়; বরং দীর্ঘ সময়ের সাংগঠনিক কাজ, তৃণমূল রাজনীতি ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠা।

তৃণমূল রাজনীতি থেকেই সূচনা

১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির একজন প্রাথমিক সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। সে সময় দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল কঠিন ও অস্থির। স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতি করা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। সেই বাস্তবতায় তিনি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হয়ে রাজনীতির প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশগ্রহণ

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। এ সময় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মধ্য দিয়ে তিনি গণতান্ত্রিক রাজনীতির বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। স্বৈরাচার পতনের পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম, তার ভেতর দিয়েই তার রাজনৈতিক বোধ ও দায়িত্ববোধ আরও দৃঢ় হয়।
রাজনীতিতে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তারেক রহমান ব্যাপকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হন। এ নির্বাচনেই তিনি একজন সংগঠক ও কৌশলী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দলীয় অঙ্গনে দৃশ্যমান হয়ে ওঠেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে দ্রুতই তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থাভাজন হন।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উত্তরণ

২০০২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারেক রহমানকে মনোনীত করা হয়। এই পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলীয় সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে কাজ করেন। তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব বিকাশ, তরুণ কর্মীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা এবং সংগঠনের কাঠামো শক্তিশালী করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ সময় দল রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মামলা ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেই সংকটকালীন সময়ে তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব

২০১৮ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকাকালে তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এ দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দল পরিচালনা, আন্দোলন-সংগ্রামে দিকনির্দেশনা প্রদান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি পরিসরে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রবাসে অবস্থান করেও তিনি নিয়মিত দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি ও কৌশল নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

রাজনৈতিক দর্শন

তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে—গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার। তিনি বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের মতামতই চূড়ান্ত এবং শক্তিশালী তৃণমূল সংগঠন ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না। তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা তার রাজনৈতিক চিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

 

কর্মী থেকে নেতা হয়ে ওঠা তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন একটানা সংগ্রাম ও ধৈর্যের প্রতিফলন। নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি বিএনপিকে সংগঠিত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সময়ের পরীক্ষায় তার ভূমিকা ও নেতৃত্বই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার অবস্থান ও অবদান।


শেয়ার করুন

আরও খবর

Sponsered content