প্রতিনিধি ৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:২৬:০৮

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, সরকার গঠনের বিষয়গুলো নিয়ে জোটের ভেতরে আলোচনা চলছে, তবে এখনো চূড়ান্ত ফয়সালা হয়নি।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
আখতার হোসেন জানান, আসন্ন নির্বাচনে এনসিপি কতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তখনই জানা যাবে কতটি আসনে দলটি তাদের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রার্থী দেবে।
জামায়াতের সঙ্গে জোটের ব্যাখ্যা
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আখতার হোসেন বলেন, সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে এনসিপির মতপার্থক্য রয়েছে। ঐক্যমত্য কমিশনে আলোচনার সময় এই ভিন্নতা স্পষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে, সংস্কার প্রশ্নে জামায়াতের সঙ্গে নীতিগত মিল থাকায় তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘ন্যাচারাল অ্যালায়েন্স’ বা স্বাভাবিক মিত্রতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে এনসিপি এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও শরিফ উসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
১১ দলীয় জোটে যাওয়ার কারণ
আখতার হোসেনের অভিযোগ, আওয়ামী ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা’ জুলাই যোদ্ধাদের টার্গেট কিলিং করছে। এই পরিস্থিতিতে এককভাবে না থেকে ১১ দলীয় জোটের মাধ্যমে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায় এনসিপি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে যেসব উদ্বেগ
মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এনসিপি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে। আখতার হোসেন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিশেষ করে যেসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—
নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি
শরিফ উসমান হাদি হত্যা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া
নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা
তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে জনগণের যেকোনো সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।
এ ছাড়া ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আখতার হোসেন বলেন, প্রতিটি দেশেরই আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত।











