প্রতিনিধি ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:২৫:৫৭

সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুম্মা মুসলমানদের কাছে সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়; বরং ঈমান নবায়ন, আত্মসমালোচনা, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার এক অনন্য সুযোগ। ইসলামে জুম্মা এমন একটি দিন, যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব স্তরেই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রেরণা জোগায়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা জুম্মার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন—
এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়—জাগতিক ব্যস্ততার ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদতই জুম্মার মূল শিক্ষা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ জুম্মার মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন—
“সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুম্মা সর্বশ্রেষ্ঠ দিন।”
(সহিহ মুসলিম)
জুম্মা শুধু ফরজ নামাজ আদায়ের দিন নয়; এটি মুসলিম সমাজের ঐক্য ও সাম্যের প্রতীক। ধনী-গরিব, ক্ষমতাবান-ক্ষমতাহীন—সবাই একই কাতারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর দরবারে মাথা নত করে। এ দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আল্লাহর কাছে মর্যাদার মানদণ্ড কেবল তাকওয়া।
খুতবা জুম্মার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অবিচার, নৈতিক অবক্ষয় ও দায়িত্ববোধহীনতার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি হয়। সঠিক ও সত্যনিষ্ঠ খুতবা একটি সমাজকে আলোকিত করতে পারে, পথ দেখাতে পারে রাষ্ট্র ও জাতিকে।
হাদিসে এসেছে—
আজকের সমাজে যখন নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ ক্রমেই ক্ষয়িষ্ণু, তখন জুম্মার শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। জুম্মা আমাদের শিখায়—মিথ্যা পরিহার করতে, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে।
শুক্রবার তাই কেবল ছুটির দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধির দিন, সমাজ সংশোধনের দিন এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার দিন।
আসুন, আমরা জুম্মার প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করি। নামাজ, দোয়া, দরুদ ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এই দিনকে অর্থবহ করে তুলি। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে জুম্মার শিক্ষা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী সমাজ।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে জুম্মার শিক্ষায় জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।










