গণতন্ত্রের আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া—বাংলাদেশের প্রতীক, আস্থার এক অমর নাম। স্বল্প জীবনের পথচলায় তিনি হারিয়েছেন তাঁর জীবনসঙ্গী শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর সংগ্রামী জীবন। সংসার থেকে রাজনীতির কঠিন ময়দানে পা রাখা মোটেও সহজ ছিল না, তবুও তিনি পিছু হটেননি।
স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মঈনুল–ফখরউদ্দিন সরকারের সময়ের জেল-জুলুম, আর ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে নির্মম কারাবাস—সবই তিনি সহ্য করেছেন অদম্য সাহস ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে। অসুস্থ অবস্থায়ও তাঁকে সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, এমনকি স্লো পয়জন প্রয়োগের মতো অমানবিক অভিযোগও দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই—এ সত্য নির্মম হলেও অনিবার্য। কারণ জন্ম যেমন সত্য, মৃত্যুও তেমনি অবশ্যম্ভাবী।
দেশবাসী তাঁর দৃঢ়তা, মনোবল ও গণতন্ত্রের জন্য নিরলস লড়াই, জেল-জুলুম সহ্য করার অসীম ক্ষমতা দেখেই তাঁকে আখ্যায়িত করেছে “দেশমাতা” নামে। সেই দেশমাতাকে আমি স্বচক্ষে বহুবার দেখেছি। তবে সরাসরি কথা বলা, তাঁর মুখ থেকে আমাদের উদ্দেশে উপদেশ শোনা—সে সৌভাগ্য সত্যিই ছিল বিরল ও অমূল্য।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আমি দেখিনি। কিন্তু আমি দেখেছি তাঁর সহধর্মিণীকে—একজন রাজনীতিবিদ, একজন সংগ্রামী নারী, একজন দেশমাতাকে। এটাই আমার গর্ব।
আমার প্রাণের সংগঠন জিয়া সাইবার ফোর্স–এর মাধ্যমে, সম্ভবত ২০১৭ বা ২০১৮ সালের শুরুর দিকের কথা। তখন জিয়া সাইবার ফোর্সের সভাপতি ছিলেন ফাইজাল খান, সমন্বয়ক ছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার ওয়াহিদ উন নবী ভাই এবং আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন বর্তমান কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান বাবুল ভাই। তাঁদের উদ্যোগেই নবনির্বাচিত বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগ হয়, গুলশানে অবস্থিত কার্যালয়ে।
সেদিন জিয়া সাইবার ফোর্সের টিম থেকে যারা দেশমাতার সঙ্গে সাক্ষাতে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলাম, তারা হলেন—
ফাইজাল এস খান, কে এম হারুন উর রশিদ, আমি, আশিকুর রহমান, আশিক আদনান,এলিনা এবং জেবীন।
কার্যালয়ে ছিল উপচে পড়া ভিড়। আমার মনে হয়েছিল, হয়তো দেখা হবে না। কারণ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ দেশমাতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন, আর আমরা একটি অনলাইন সংগঠন—ভাবছিলাম হয়তো আমাদের তেমন মূল্যায়ন হবে না। কিন্তু সব শঙ্কা দূর করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (ড্যাব) ও ওলামা দলের আগেই আমাদের ডাকা হলো।
সেই মুহূর্তে আমার বুকের ভেতর হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছিল। ওপরে গিয়ে দেখি আমাদের বাবুল ভাই ও ওয়াহিদ উন নবী ভাই বসে আছেন। দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সাহেবও আমাদের পাশেই উপস্থিত ছিলেন।
দেশমাতা আমাদের উদ্দেশে বলেছিলেন—
“তোমরাই আমাদের মিডিয়া। তোমরা গ্রেফতার হলে চলবে না। অনলাইনে প্রচার আরও বাড়াতে হবে।”
এই কথাগুলো আজও গভীরভাবে কানে বাজে, হৃদয়ে গেঁথে আছে। ফটোসেশন শেষে আমরা দেশমাতার কাছ থেকে বিদায় নিই। সেটিই ছিল তাঁর সঙ্গে আমার শেষ দেখা।
এরপর আসে হাসিনার দুঃশাসন—নির্মম জেল-জুলুম, চিকিৎসাহীনতায় ধুঁকে ধুঁকে অসুস্থ হয়ে পড়া। একসময় মহাকালের নিয়মে চিরবিদায় নিলেন সেই মহীয়সী নারী, আমাদের দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া। আর দেখা হবে না। দেশের পক্ষে, জনতার পক্ষে সেই দৃঢ় কণ্ঠ আর শোনা যাবে না।
এই লেখায় কিছু স্মৃতি কথা হয়তো অজান্তেই ভুল হয়ে থাকতে পারে। আরও অনেক কথা ছিল—যা বলা হয়নি, লেখা হয়ে ওঠেনি। কলম চলছিল না।
তবুও স্মৃতির দায় থেকেই এই লেখা।
মোহাম্মদ আলফাজ দেওয়ান
যুগ্ম-আহবায়ক,গাজীপুর মহানগর-কৃষকদল।
সিনিয়র সহ-সভাপতি,জিয়া সাইবার ফোর্স।
সম্পাদকঃ মাহবুবা আক্তার। অফিসঃ ৭৫ ই-ব্রডওয়ে,নিউইয়র্ক এনওয়াই ১০০০২।ফোন:+৮৮০১৭১২৯০৩৪০১ ই- মেইলঃ dailyhaquekotha@gmail.com
প্রকাশিত সংবাদপত্রের অংশ