প্রতিনিধি ৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:০১:২০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনী মোতায়েনের বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরিপত্রে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, বাহিনীগুলোর দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের রূপরেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটের আগে-পরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনী নির্দিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, নির্বাচনী সরঞ্জাম ও নথিপত্রের সুরক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।
সংবেদনশীল কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীকে ‘In Aid to Civil Power’-এর আওতায় ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মোতায়েন করা হবে। এ সময় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং প্রয়োজন হলে যৌথ অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নেবে বাহিনীগুলো। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে, প্রয়োজনে হেলিকপ্টার টহলও চলবে।
বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব ও আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। এসব বাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা, যারা নির্বাচনী আচরণবিধি মানা নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে নির্বাচন শুরুর দুই দিন আগে থেকে শেষের দুই দিন পর পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের গুরুত্ব ও এলাকার ধরন অনুযায়ী সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মেট্রোপলিটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৫ জন পুলিশ ও ১২ জন আনসার/ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
এছাড়া নির্বাচনকালীন ও আশপাশের সময়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, জরুরি সহায়তা এবং সার্বিক প্রশাসনিক প্রস্তুতির দিকনির্দেশনাও পরিপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

















