প্রতিনিধি ৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:০৬:২০

মেক্সিকোর দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে আরও অন্তত ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিবিসির সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুয়েরেরো রাজ্যের সান মার্কোস এলাকার কাছে, যা জনপ্রিয় পর্যটন শহর আকাপুলোর অদূরে অবস্থিত।
গুয়েরেরো রাজ্যের গভর্নর ইভেলিন সালগাদো জানিয়েছেন, রাজ্যটিতে ৫০ বছর বয়সী এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা নিশ্চিত করেছেন, রাজধানীতে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মেয়র ব্রুগাদা বলেন, মূল ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হচ্ছে। তিনি নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, জরুরি পরিস্থিতিতে টিকে থাকার জন্য সবসময় ‘লাইফ ব্যাকপ্যাক’ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেন। এই ব্যাকপ্যাকে টর্চলাইট, রেডিও, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, গরম কাপড় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপি রাখার নির্দেশনা দিয়েছে মেক্সিকোর জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও জানান, ধসের আশঙ্কা রয়েছে—এমন দুটি স্থাপনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজধানীতে ৩৪টি ভবন ও ৫টি বাড়ি পরিদর্শনের আওতায় আনা হয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় মেক্সিকান সিসমিক অ্যালার্ট সিস্টেমে সতর্ক সংকেত বাজলে মেক্সিকো সিটি ও আকাপুলোতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। ১৯৮৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর পর এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা চালু করা হয়।
এ সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম বছরের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “মাটি কাঁপছে।” এরপর তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের শান্তভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
ভূমিকম্প-পরবর্তী ভিডিওতে মেক্সিকো সিটিতে ভবন দুলতে এবং গুয়েরেরোর আকাপুলো এলাকায় গাড়ি কাঁপতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, মেক্সিকো বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ২০১৭ সালে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে সেখানে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল এবং রাজধানীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
সূত্র: বিবিসি

















