নাগরিক প্রতিবেদন

এই মুহূর্তের বাস্তবতা: রাষ্ট্র পরিচালনার সামনে বহুমাত্রিক সংকট

  প্রতিনিধি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৯:১২:৪৩

শেয়ার করুন

এই মুহূর্তে দেশের বিদ্যুৎ খাত এক ভয়াবহ আর্থিক চাপের মুখে। সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে সরকারের মোট বকেয়া প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু বেসরকারি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনাই প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।

Adani Group-এর পর এখন অন্যান্য বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরাও একযোগে বকেয়া পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। তারা নতুন সরকারকে কোনো সময়সীমা দিতে রাজি নয়। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য—
বকেয়া পরিশোধ না হলে জ্বালানি কেনা সম্ভব নয়, আর জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনও হবে না।
কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হলো, গত এক যুগের বেশি সময় ধরে Sheikh Hasina সরকারের সময় এই বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকরা ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’-এর নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আদায় করেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকুক বা না থাকুক—সরকার নিয়মিত টাকা দিয়ে গেছে।

আর সেই অর্থের বোঝা আজ পরিণত হয়েছে জাতির ঘাড়ে চাপানো ঋণের পাহাড়ে।
বৈশ্বিক সংকট: জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা
এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
Iran-এ যৌথ হামলা চালাচ্ছে Israel এবং United States—এমন খবর বিশ্বজুড়ে তীব্র উত্তেজনা তৈরি করেছে।

গত কয়েকদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে মানচিত্রে চিহ্নিত Strait of Hormuz—এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়।

যদি কোনো কারণে ইরান এই পথ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে তেলের দাম এক লাফে ১০–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ সব জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের অর্থনীতিতে।

সরকার প্রাথমিকভাবে যা করতে পারে

এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো যোগাযোগ ও বার্তা ব্যবস্থাপনা (Communication Management)।

সরকারের পক্ষ থেকে একজন নির্দিষ্ট মুখ থাকবে
– জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব বিষয়ে তিনিই সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন।

– নিয়মিত আপডেট দেবেন, গুজব ঠেকাবেন, আস্থা তৈরি করবেন।

– তার পেছনে অবশ্যই দক্ষ একটি গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক টিম থাকবে।

একটি মাত্র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আপডেট

– বাকি সব পেজ শুধু রুটিন তথ্য বা শেয়ার করবে, নিজস্ব ব্যাখ্যা নয়।

– এতে বিভ্রান্তি কমবে, সরকারের বক্তব্য হবে একক ও স্পষ্ট।

সেই ব্যক্তি কে হবেন—এটা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

তবে আমার বিশ্বাস, Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) চাইলে এমন সক্ষম, পরিণত ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভাষা জানা মানুষ খুঁজে পাবে।
এই ক্যাপাসিটির লোক তাদের দলে নেই—এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।


শেয়ার করুন

আরও খবর

Sponsered content