প্রতিনিধি ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৬:২৪:৪৫

পবিত্র শবে বরাত ইসলামী চিন্তা ও আত্মশুদ্ধির এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ রাত। আরবি ‘লাইলাতুল বরাআত’ শব্দ থেকে আগত ‘শবে বরাত’-এর অর্থ হলো মুক্তির রজনী—গুনাহ থেকে মুক্তি, জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ এবং আল্লাহর রহমত লাভের আশাবাদ। এই রাত কেবল ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানুষের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে নৈতিক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের আমলনামা পর্যালোচনা করেন এবং আগামীর তাকদিরের কিছু সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়। এই বিশ্বাস মানুষকে আত্মসমালোচনায় উদ্বুদ্ধ করে—আমি কী করেছি, কী করা উচিত ছিল, কোথায় ভুল করেছি। শবে বরাত তাই আত্মজিজ্ঞাসার রাত, যেখানে মানুষ নিজের ভেতরের অন্ধকার দিকগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সাহস পায়।
শবে বরাতের মূল শিক্ষা হলো ক্ষমা—নিজের জন্য যেমন, তেমনি অন্যের জন্যও। ব্যক্তিগত জীবনে আমরা অনেক সময় হিংসা, বিদ্বেষ ও অহংকার পুষে রাখি, যা সমাজকে বিভক্ত করে। এই রাত আমাদের শেখায়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হলে আগে মানুষের প্রতি আমাদের মন পরিষ্কার করতে হবে। পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য শবে বরাত এক অনন্য সুযোগ।
দুঃখজনক হলেও সত্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শবে বরাতের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অনেক ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিচ্ছে। আতশবাজি, অপচয় কিংবা লোক দেখানো ইবাদত এই রাতের মূল উদ্দেশ্যকে আড়াল করে দেয়। অথচ শবে বরাত আমাদের ডাকে নীরবতায়, সেজদায়, দোয়ায় এবং দায়িত্বশীল জীবনের অঙ্গীকারে।
সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটেও শবে বরাতের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যায়, দুর্নীতি ও জুলুমে জর্জরিত বাস্তবতায় এই রাত মানুষকে ন্যায়বোধ ও আল্লাহভীতির পথে ফেরার বার্তা দেয়। ব্যক্তি যদি সৎ হয়, তবে সমাজও বদলাতে শুরু করে—শবে বরাত সেই পরিবর্তনের বীজ বপনের রাত।
সবশেষে বলা যায়, শবে বরাত কোনো এক রাতের ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সারাবছরের জন্য আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবিকতার রোডম্যাপ। এই পবিত্র রাতে আমাদের প্রত্যাশা হোক—আমরা শুধু ক্ষমা চাইবো না, বরং নিজেদের বদলানোর সাহসও অর্জন করবো। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শবে বরাতের প্রকৃত শিক্ষা উপলব্ধি করে তা জীবনে বাস্তবায়নের তৌফিক দান করুন। আমিন।











