প্রতিনিধি ১২ মার্চ ২০২৬ , ৯:১৫:০২

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
জিয়া সাইবার ফোর্স (জেডসিএফ) আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিগত নির্বাচনে অনলাইন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেবল একটি নির্দিষ্ট সংগঠনকে কৃতিত্ব দেওয়ায় সাধারণ অ্যাক্টিভিস্ট ও সচেতন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও জনমনে প্রতিক্রিয়া
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত নির্বাচনে ‘বট’ বাহিনীর অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে জিয়া সাইবার ফোর্স। তাঁর এই বক্তব্যের পর অনলাইন অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে বলা হচ্ছে, অনলাইনে ফ্যাসিবাদ, অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের কাজ নয়। এটি অসংখ্য সচেতন নাগরিক, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় কর্মী এবং বহু সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। সেখানে কোনো একটি বিশেষ সংগঠনকে আলাদা করে কৃতিত্ব দেওয়া মানে অন্যদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবদানকে আড়াল করা।
নেতৃত্বে বিভক্তি ও অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিমন্ত্রীর এই প্রশংসার বিপরীতে জেডসিএফ-এর অতীত কর্মকাণ্ড ও বর্তমান অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়েও নানা তথ্য সামনে আসছে। জানা গেছে, জিয়া সাইবার ফোর্স বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত; যার একটি অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন কে এম হারুন এবং অন্য অংশে ফাইজাল খান।
অভিযোগ উঠেছে, ২০১৮ সালে যখন তৎকালীন সরকার অনলাইন লেখকদের ওপর গুম, জেল-জুলুম ও চরম নির্যাতন শুরু করে, তখন বর্তমান জেডসিএফ-এর অনেকেই পদত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যান অথবা নিশ্চুপ হয়ে যান। এমনকি ডিবির ভয় দেখিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সংগঠনের কিছু নেতার বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ নীরবতা ও হঠাৎ সক্রিয়তা
নেটিজেনরা দাবি করছেন, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের শুরু পর্যন্ত দীর্ঘ সময় রাজপথে বা অনলাইনে জিয়া সাইবার ফোর্স জেডসিএফ এর কোনো হদিস বা কার্যকর ভূমিকা ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা আবারও সক্রিয় হয়ে ‘কৃতিত্ব’ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
এছাড়াও আরেকাংশ জিয়া সাইবার ফোর্স উক্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করে।
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের মতে, যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ সময় ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই চালিয়ে গেছেন, তাদের বাদ দিয়ে কেবল একটি বিতর্কিত ও সুবিধাবাদী অংশকে বাহবা দেওয়া প্রকৃত যোদ্ধাদের জন্য অপমানজনক।

পুরাতন জিয়া সাইবার ফোর্স এর লোগো

















