সম্পাদকীয়

মধ্যপ্রাচ্যের বারুদঘরে আগুন: ইরান কি সত্যিই ভয়ংকর শক্তি?

  প্রতিনিধি ২ মার্চ ২০২৬ , ৭:৫০:২৪

শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্য আবারও অশান্তির দ্বারপ্রান্তে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—এই তিন শক্তির ক্রমবর্ধমান সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও এক গভীর উদ্বেগের নাম। প্রশ্ন একটাই—ইরান কি আদৌ সেই শক্তি, যাকে ভয় পায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিব?

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরান পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে নিজেকে একটি প্রতিরোধ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন, ইসরায়েলের অস্তিত্বকে অস্বীকার এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে তেহরান শুরু থেকেই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু চার দশকের নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও একঘরে করার চেষ্টা সত্ত্বেও ইরান ভেঙে পড়েনি; বরং কৌশলে আরও পরিণত হয়েছে।

সামরিক শক্তির নিরিখে ইরান যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সমকক্ষ নয়—এ কথা সত্য। তবে যুদ্ধ শুধু আধুনিক যুদ্ধবিমান বা উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের নাম নয়; যুদ্ধ কৌশলেরও নাম। ইরান সেই কৌশলগত যুদ্ধেই শক্তিশালী। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, স্বল্প ব্যয়ে কার্যকর ড্রোন প্রযুক্তি এবং একাধিক দেশে গড়ে তোলা প্রক্সি বাহিনী ইরানকে সরাসরি যুদ্ধ ছাড়াই আঘাত হানার সক্ষমতা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির এক স্পর্শকাতর স্নায়ুতে হাত রাখার শামিল।

অন্যদিকে, ইসরায়েল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও দ্রুত হামলার সক্ষমতায় এগিয়ে থাকলেও বহুমুখী যুদ্ধে দেশটির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। আর যুক্তরাষ্ট্র—বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি—মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়াতে চায়। কারণ, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ মানেই শুধু তেহরানের সঙ্গে নয়; তা মানে গোটা অঞ্চলকে অগ্নিগর্ভ করে তোলা।

এই প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট হয়, ইরানকে সামরিকভাবে পরাজিত করা সহজ কোনো কাজ নয়। তেহরান জানে, সরাসরি সংঘাতে তারা দুর্বল হতে পারে; তাই তারা লড়াই বেছে নিয়েছে দীর্ঘমেয়াদি, বহুমাত্রিক ও ছায়াযুদ্ধের পথে। এতে ক্ষয়ক্ষতি ধীরে হলেও স্থায়ী হয়—যা শত্রুপক্ষের জন্য আরও ভয়ংকর।

সম্পাদকীয় দৃষ্টিতে বলা যায়, ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাত আসলে শক্তির চেয়ে ধৈর্য, কৌশল ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরীক্ষা। যুদ্ধ শুরু হলে জয়ী হওয়ার প্রশ্নের চেয়ে বড় হয়ে উঠবে ক্ষতির হিসাব। আর সেই ক্ষতির দায় শুধু তিন দেশের নয়—তার ভার বইতে হবে পুরো বিশ্বকেই।


শেয়ার করুন