সারাদেশ

সাভারে উত্তেজনা: উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে প্রশাসন বনাম রাজনৈতিক পাল্টা কর্মসূচি

  প্রতিনিধি ৩১ মার্চ ২০২৬ , ১:৩৩:৫৭

শেয়ার করুন

সংবাদ:
সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। একদিকে জনস্বার্থে প্রশাসনের কঠোর উচ্ছেদ অভিযান, অন্যদিকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে রাজনৈতিক পাল্টা কর্মসূচি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রশাসন একটি বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। এতে মহাসড়কের ফুটপাত ও অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। স্থানীয়দের মতে, এই পদক্ষেপ জনদুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে এই অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন সাভার পৌর বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে আগামী ২ এপ্রিল ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দেন। তার এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রশাসন এ ঘোষণাকে আইনশৃঙ্খলার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে হকারদের পক্ষে তার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠেছে। অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন—এটি কি সত্যিই হকারদের স্বার্থ রক্ষার উদ্যোগ, নাকি এর পেছনে রয়েছে ফুটপাত দখলকে ঘিরে অর্থনৈতিক স্বার্থ।

এদিকে জাহাঙ্গীর আলম নিজ দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, কিছু নেতা সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করছেন। তবে এ মন্তব্যের জেরে স্থানীয় বিএনপির মধ্যেই তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং অনেক নেতাকর্মী তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, মহাসড়কের ফুটপাতে কোনো ধরনের অবৈধ দখল বা কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে জনসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে উচ্ছেদ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

বর্তমানে সাভারের সাধারণ মানুষ উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একদিকে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা—২ এপ্রিলের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়েই এখন সবার দৃষ্টি।


শেয়ার করুন

আরও খবর

Sponsered content