নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈশ্বরদী:
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং জিয়া সাইবার ফোর্সের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন ইমরান হোসেন সোহাগ। তিনি এলাকায় একজন সক্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সম্প্রতি প্রস্তাবিত কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার কারণে আলোচনায় ছিলেন।
স্থানীয় পর্যায়ে অনেকেই দাবি করছেন, এটি শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড নয়; বরং পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলেরই একটি রক্তক্ষয়ী বহিঃপ্রকাশ।
ঈশ্বরদী উপজেলার এক বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“নির্বাচনের পর থেকেই এখানে মারামারি ও শত্রুতা চলছেই। এখানে বিএনপি এখন বিএনপির শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বাইরে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের প্রভাব তো আছেই। পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্রুত এই এলাকার পরিস্থিতি সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। অন্যথায় দলীয় নেতাকর্মীদের আরও রক্ত দিতে হতে পারে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় নেতৃত্বের বিভক্তি এবং দীর্ঘদিনের গ্রুপিং রাজনীতি পরিস্থিতিকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে করে শুধু দলীয় ঐক্যই নয়, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। তবে এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরদীতে ইমরান হোসেন সোহাগ হত্যাকাণ্ড স্থানীয় রাজনীতির গভীর সংকটকে সামনে এনে দিয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে এই দ্বন্দ্ব আরও সহিংস রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদকঃ মাহবুবা আক্তার। অফিসঃ ৭৫ ই-ব্রডওয়ে,নিউইয়র্ক এনওয়াই ১০০০২।ফোন:+৮৮০১৭১২৯০৩৪০১ ই- মেইলঃ dailyhaquekotha@gmail.com
প্রকাশিত সংবাদপত্রের অংশ