সারাদেশ

ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে দেশজুড়ে রাতভর উত্তাল পরিস্থিতি, বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ–ভাঙচুর

  প্রতিনিধি ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩:২০:২৯

শেয়ার করুন

সংবাদ-

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত গভীর হতেই রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় রাস্তায় নেমে আসে বিক্ষোভকারীরা। একাধিক শহরে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এনসিপি, ছাত্রদল, শিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি—ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

চট্টগ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। একই রাতে বান্দরবানে সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিংয়ের বাসভবনে আগুন দেওয়া হয়।

সিলেটেও রাতভর উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে ছাত্র-জনতা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে সেখান থেকে মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী স্লোগান দেয় এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

রংপুরে বিক্ষোভে অংশ নেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন হল থেকে বের হওয়া মিছিল মিডিয়া মোড়, পার্ক মোড় ও শহীদ আবু সাঈদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে।

লালবাগ এলাকা থেকে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। রাত সাড়ে বারোটা পর্যন্ত শাপলা চত্বর অবরোধ করে রাখা হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির প্রতীক ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

গাইবান্ধায় বাস টার্মিনালের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। এতে গাইবান্ধা–পলাশবাড়ী সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দূরপাল্লার কোনো বাস ছাড়তে পারেনি।

খুলনাতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিববাড়ি মোড় অবরোধ করে মিছিলটি কেডিএ এভিনিউ ঘুরে ময়লাপোতা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ চলাকালে শিববাড়ি মোড়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা।

ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই উত্তেজনায় বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি টানটান হয়ে ওঠে।


শেয়ার করুন

আরও খবর

Sponsered content