রাজনীতি

ইরানে হামলা বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াতের

  প্রতিনিধি ১ মার্চ ২০২৬ , ১০:১৪:১৩

শেয়ার করুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অবিলম্বে ইরানের ওপর সামরিক হামলা বন্ধ না করলে জামায়াতে ইসলামী দেশব্যাপী বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে বলে সতর্ক করেছেন দলটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে ঢাকার বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে ইরানে হামলা এবং আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইরানের জনগণের ওপর চলমান আগ্রাসন এবং সেখানে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। হামলা বন্ধ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনে নামবে জামায়াত।

ইসরায়েলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, অতীতেও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তারা আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত হয়েছে এবং একাধিকবার পণ্য বর্জনের মুখে পড়েছে। আবারও যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তাদের অর্থনীতি ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনগণকে বাধ্য করবেন না—অবিলম্বে ইরানের ওপর আগ্রাসন বন্ধ করুন।
যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘ ও ওআইসি-এর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘ আজ কয়েকটি শক্তিধর দেশের স্বার্থরক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শান্তিকামী দেশগুলোর পক্ষে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হলে একদিন বিশ্ববাসী প্রশ্ন তুলবে—জাতিসংঘের প্রয়োজনীয়তা আদৌ আছে কি না।

ওআইসির ভূমিকা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করে এটিএম আজহার বলেন, মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্বকারী এই সংগঠনটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। মুসলিম দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শুধু ওই অঞ্চলের জন্য নয়, বাংলাদেশসহ বহু দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

ইরানের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লব সফল হয়। সেই শক্তিকে দুর্বল করতে বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তিগুলো বহুবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তাই গণতন্ত্রের কথা শুধু মুখে বললেই চলবে না—নিজ দেশে ও অন্য দেশেও তা সম্মান ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, এক বা দুই দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকলেও যদি বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে শেষ পর্যন্ত কোনো দেশই নিরাপদ থাকবে না।


শেয়ার করুন

আরও খবর

Sponsered content