অর্থনীতি

ঈদে রেমিট্যান্সের জোয়ারে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রিজার্ভ, শক্ত হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার

  প্রতিনিধি ২০ মার্চ ২০২৬ , ১২:৪২:৪৮

শেয়ার করুন

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচ মেটাতে অধিক হারে রেমিট্যান্স পাঠানোর ফলে চলতি মার্চের প্রথমার্ধেই দেশে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে, যা সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে রিজার্ভে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার (গ্রোস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। আর International Monetary Fund (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে এই সময় মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা থেকে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

তবে অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র বুঝতে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে এ রিজার্ভ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এতে করে গড়ে মাসে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় বিবেচনায় প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব—যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বস্তিদায়ক অবস্থান।

একসময় এই ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল, ফলে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ডলার বিক্রি কমানো, হুন্ডি ও অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার মতো পদক্ষেপ নেন। এতে ধীরে ধীরে রিজার্ভ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ঈদকে ঘিরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। ভারসাম্য রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে, ফলে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ডলারের দর অতিরিক্ত কমে গেলে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের রিজার্ভ একসময় ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচার ও বাজার অস্থিরতার কারণে রিজার্ভ কমে যায়। ২০২৪ সালের আগস্টে তা নেমে আসে প্রায় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে, আর ডলারের বিনিময় হার বেড়ে ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়।

বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল। চলতি মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে এসেছে ২২০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। এর আগের মাসগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলো থেকে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে, যা রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়ক হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এখনো বড় ধরনের বিনিয়োগ না বাড়ায় আমদানি চাপ কম রয়েছে, যা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। তবে সামনে বিনিয়োগ বাড়লে আমদানিও বাড়বে, ফলে ডলারের চাহিদা বাড়তে পারে। তবুও অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ডলার সংকটের আশঙ্কা কম থাকবে।


শেয়ার করুন

আরও খবর

Sponsered content