প্রতিনিধি ৪ এপ্রিল ২০২৬ , ৯:০২:১৪

পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা ও জিয়া সাইবার ফোর্স ঈশ্বরদী উপজেলা সদস্য সচিব ইমরান হোসেন সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা।
হত্যাকারীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে পৌর শহরের খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পথসভায় মিলিত হয়। এতে নিহত সোহাগের পরিবার, স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
পথসভা থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, “আমার ভাই মরলো কেন? প্রশাসন জবাব চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই”—এই স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা, যাদের মধ্যে ছিলেন ইসলাম হোসেন জুয়েল, আনোয়ার হোসেন জনি, জাকির হোসেন জুয়েল, নাজমুল হাসান রিশাদ, মুস্তাফিজুর রহমান বিটু এবং মাহমুদুল হাসান শাওন। তারা দাবি করেন, ঈদের আগের রাতে সংঘটিত আরেকটি হামলার ধারাবাহিকতায় সোহাগকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত সোহাগের ছোট ভাই রোহান বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাড়ি ফেরার পথে তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এমন বিচার দাবি করেন, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।
এদিকে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানিয়েছেন, এখনো এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে দশটার দিকে দুর্বৃত্তরা ইমরান হোসেন সোহাগকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

















